বাংলার আকাশ ডেস্ক :
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপাচার্য জানান, কর্মমুখী ও যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করতে দেশি-বিদেশি ১৫০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের অ্যাপ্রেন্টিসশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০ হাজার শিক্ষানবিশ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ লার্নিং ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে মান্দারিন, জাপানি, কোরিয়ান, আরবি, ইতালীয়, স্প্যানিশ ও ফরাসি ভাষা শেখার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
সভায় আরও জানানো হয়, দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠ্যক্রম চালু, স্নাতক পর্যায়ে ইংরেজি ও আইসিটি বাধ্যতামূলক করা, সিলেবাস সংস্কার, শিক্ষক প্রশিক্ষণের আধুনিকায়ন এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দুই কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যে ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে।
অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ টি এম জাফরুল আযম ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৮০১ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার মূল বাজেট এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৬৬৪ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেট উপস্থাপন করেন। সিনেট সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে উভয় বাজেট অনুমোদন করেন।
অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬১৭ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা এবং বাজেট ঘাটতি ১৮৩ কোটি ৯০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২৫ কোটি ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, যেখানে ঘাটতির পরিমাণ ৩৯ কোটি ৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের সূচনা হয়। পরে প্রয়াত বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সভায় প্রো-উপাচার্য, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, কলেজের অধ্যক্ষ, সিনেট সদস্য, শিক্ষাবিদ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ কয়েকজন বিভাগীয় কমিশনার ভার্চুয়াল মাধ্যমে অধিবেশনে অংশ নেন।
সমাপনী বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু ডিগ্রি প্রদান নয়; বরং এমন দক্ষ, উদ্ভাবনী ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলা, যারা দেশের উন্নয়ন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।