বাংলার আকাশ ডেস্ক :
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে হওয়া ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জন নিহত এবং কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন। ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ইয়ারাকুই রাজ্যের সান ফেলিপে এলাকায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আরও শক্তিশালী দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত করে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫।
ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হয়। বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকটি এলাকায় ধসে পড়া স্থাপনার নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সরকার কারাকাসের প্রধান বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ করেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস স্থগিত করেছে এবং হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন করেছে।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৭০০ জন। তবে উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের আলতামিরা ও এল প্যারাইসো এলাকা। এছাড়া লা গুয়াইরা এবং মধ্য ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন অঞ্চলেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছে। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণেও কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনে আরও আফটারশকের আশঙ্কা রয়েছে।
ভূমিকম্পের ঘটনায় বিভিন্ন দেশ ভেনেজুয়েলার পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, এল সালভাদর, ইকুয়েডর, পানামা, মেক্সিকো ও ব্রাজিল মানবিক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।