বাংলার আকাশ ডেস্ক :
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্ক (অ্যান্টি-রেবিস) টিকা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—জেলার সিভিল সার্জন ডা. কামরুল জমাদ্দার, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহাম্মদ কবীর এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্ট্যানোটাইপিস্ট মিজানুর রহমান।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হাসপাতালে টিকার অভাবের কথা বলা হয়। সেখানে উল্লেখ ছিল, রোগীদের বাইরে থেকে টিকা কিনতে হচ্ছে। তবে তিনি সরেজমিনে গিয়ে দেখেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত টিকা মজুদ রয়েছে এবং অন্তত ২৫টি ভায়াল সংরক্ষিত আছে।
তিনি অভিযোগ করেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে ভুল তথ্য দেওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ধরনের আচরণকে তিনি অনভিপ্রেত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, কোথাও টিকার ঘাটতি দেখা দিলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত ছিল। প্রয়োজনে এমএসআর ফান্ড বা স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় সহজেই টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব।
টিকা সরবরাহ নিয়ে তিনি বলেন, কিছু আন্তর্জাতিক শর্তের কারণে সাময়িক জটিলতা তৈরি হলেও নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বড় পরিসরে টিকা সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া হাম (মিজেলস) পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সংক্রমণ বেড়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় বিপুল পরিমাণ টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম চালু রয়েছে।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।