বাংলার আকাশ ডেস্ক :
দেশে হাম রোগের সংক্রমণে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এবার ৬ মাসের কম বয়সি শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে, যা আগে খুব একটা দেখা যেত না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে ধারণক্ষমতার বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই ৯ মাসের কম বয়সি শিশু। এতে অভিভাবকদের পাশাপাশি চিকিৎসকদের মধ্যেও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী ৬ মাসের কম বয়সি শিশুদের সাধারণত হাম হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। তবে চলতি বছর এই বয়সী শিশুদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। একইভাবে ৬ থেকে ৯ মাস বয়সি শিশুর মধ্যেও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে, যা আগে প্রায় শূন্যের কাছাকাছি ছিল।
তবে এই পরিবর্তনকে এখনই নতুন কোনো ধরন হিসেবে চিহ্নিত করতে নারাজ বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্য, বর্তমানে ব্যবহৃত টিকা কার্যকর রয়েছে, তাই এটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট কি না তা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। এ বিষয়ে গবেষণা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ফল পেতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন প্রবণতা শুধু দেশে নয়, অন্যান্য দেশেও দেখা যাচ্ছে। তবে এটি ভাইরাসের নতুন বৈশিষ্ট্য কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। ঢাকাসহ কয়েকটি সিটি করপোরেশন এলাকায় ইতোমধ্যে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়ে ১১ মে পর্যন্ত চলবে। এতে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সি শিশুরা অংশ নিতে পারবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে ১৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২৮ শিশু।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, সময়মতো টিকা নেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।