বাংলার আকাশ ডেস্ক :
সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে ধারাবাহিক অভিযানে গত দেড় বছরে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও অবৈধ সামগ্রী উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। একই সঙ্গে দস্যু দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ মাসে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৮১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৯৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ, জাহাঙ্গীর ও আসাবুরসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৬১ জন দস্যুকে গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি অপহৃত ৭৮ জন জেলে ও তিনজন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানে দস্যুদের বেশ কয়েকটি আস্তানা ধ্বংস করা হয়। এছাড়া ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি শিকারের ফাঁদ এবং অন্যান্য অবৈধ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২৯ জন শিকারিকেও আটক করা হয়।
সংস্থাটি আরও জানায়, এই সময়ে প্রায় ১ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ জাল ও বিপুল পরিমাণ রেণুপোনা জব্দ করা হয়েছে, যা উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নতুন দস্যু চক্র আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি যৌথ অভিযান চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সুন্দরবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে তারা বলেন, জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের নিরাপদে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এসব অভিযানের মূল লক্ষ্য।
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত না করা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানায় কোস্ট গার্ড।