1. admin@banglarakash.com : admin :
শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন এমপি নায়াব ইউসুফ রামেকে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট ৩৮ জনের প্রাণহানি হামের টিকা কর্মসূচি শুরু: ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা ফরিদপুর জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসকের জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন সাফজয়ী যুব দলকে বর্ণিল সংবর্ধনা, ছাদখোলা বাসে শোভাযাত্রা হাতিরঝিলে কদমতলীতে গ্যাসলাইট কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস সংসদের ভেতর-বাইরে সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে জামায়াত: আব্দুল হালিম ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, আলোচনায় প্রভাব নেই: ট্রাম্প তেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা, সর্বোচ্চ শাস্তির হুঁশিয়ারি রাজশাহীতে হামের প্রকোপে শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৪০

মাকে হত্যার দায়ে বাবা জেলে, যা বলছেন মেডিকেলপড়ুয়া মেয়ে

বাংলার আকাশ ডট কম email:banglar.akash.sif@gmail.com
  • Update Time : সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২২
  • ২৫৫ Time View

আমার পুরো পৃথিবী ছিল আমার আম্মু। আম্মুর সঙ্গে আমি প্রতিদিন ফোনে কয়েকবার করে কথা বলতাম। আমার আব্বু ও আম্মুর মধ্যে অনেক সুসম্পর্ক ছিল। রান্না থেকে শুরু করে বাড়ির বিভিন্ন কাজে আব্বু আমার আম্মুকে সাহায্য করত। বরং আমার মামা-খালারা লোভী বলে তাদের সঙ্গে আম্মুর সম্পর্ক ভালো ছিল না।

আমার আব্বুকে যে অভিযোগে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে, সে অভিযোগের কিঞ্চিত পরিমাণও যদি সত্যি হতো তা হলে আমি নিজেই আমার আব্বুর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতাম।

কথাগুলো এভাবেই সাংবাদিকদের বলেন স্ত্রী আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে কারাগারে আটক রাজবাড়ী সদর উপজেলার কোলা সদর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরহাদ বিশ্বাসের মেডিকেল কলেজপড়ুয়া মেয়ে মাইশা ফারজানা।

ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজের ছাত্রী মাইশা ফারজানা অবনী বলেন, পারিবারিক কিছু বিষয় নিয়ে গত- ৮ এপ্রিল দিবাগত রাত ১০টার দিকে আমার আম্মু অভিমান করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। তখন আমার আব্বু বাড়িতে ছিল না। আমার মামা ও খালারা আমার আব্বুর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে তাকে জেলে পাঠিয়েছে।

মাইশা বলেন, আমি নিজে মেডিকেলের শিক্ষার্থী। পুলিশের উপস্থিতিতে আমি আমার আম্মুর সুরতহাল করেছি। আমার আম্মু আত্মহত্যা করেছে। আমার আম্মু পৃথিবী থেকে চলে যাওয়াতে আমার পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গেছে।
তার ওপর আমার মামা ও খালারা আমার আব্বুকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়ে আমাকে ও আমার ছোটভাইকে আরও হয়রানি করছে। আমরা মিথ্যা মামলা থেকে আমাদের আব্বুর নিঃশর্ত মুক্তি চাই।

ফরহাদ বিশ্বাসের ছেলে অর্ণব বলেন, আমি ও বাবা বাড়িতে ইফতার করে বাইরে চলে যাই। রাতে আমার বোন আমাকে ফোন করে বলে যে আম্মু ওর ফোন ধরছে না। তখন আমি বাইরে থেকে বাড়ি এসে আম্মুর ঘরের দরজা বন্ধ দেখে আম্মুকে ডাকাডাকি করি। অনেক ডাকাডাকির পরও আম্মু দরজা না খোলায় আমি জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখি আম্মু ফ্যানের সাথে ঝুলছে। সেই সময় আমাদের বাড়ির পাশের মসজিদে তারাবিহ নামাজ পড়ে মুসল্লিরা বাড়ি ফিরছিলেন। আমার চিৎকারে মুসল্লিরা ছুটে আসেন। তাদের সহায়তায় ফ্যান থেকে আম্মুর লাশ নিচে নামানো হয়। তার পর আব্বুকে ফোন করা হলে তিনি দ্রুত বাড়িতে চলে আসেন।

অর্ণব আরও বলেন, রাতে যখন আমাদের বাড়িতে পুলিশ আসে, তখন আমার খালা লিমা আমাকে ডাক দিয়ে ফাঁকে নিয়ে যায়। সেই সময় সে আমাকে বলে আমি যেন পুলিশের কাছে বলি যে, আমার আব্বু আমার আম্মুকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছে। তখন আমি আম্মুর জন্য অনেক কান্না করছিলাম। আমি খালাকে বলি যে ঠিক আছে আপনি যা বলেন আমি তাই বলব। পরে পুলিশ আমাকে জিজ্ঞাসা করলে আমি আমার খালার শিখিয়ে দেওয়া মিথ্যা কথা না বলে আমি যেভাবে আম্মুর লাশ ঝুলতে দেখেছি সেসব সত্যি কথা বলি। এর পর থেকেই আমার তিন খালা ও মামারা আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়। শুধু তাই নয়, তারা আমার আব্বুর সঙ্গে আমাকেও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করে।

ফরহাদ বিশ্বাসের প্রতিবেশী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফরহাদ বিশ্বাসকে আমি ছোটবেলা থেকে চিনি। তিনি খুব ভালো মানুষ। তিনি কোনো দিনও তার স্ত্রীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেননি। বরং তার স্ত্রীর জিদ বেশি ছিল। স্বামী-স্ত্রী টুকিটাকি কোনো কথা কাটাকাটি লাগলেই তার স্ত্রী উত্তেজিত হয়ে যেত। ফরহাদ বিশ্বাস তার স্ত্রীকে হত্যা করবেন এটি আমরা এলাকাবাসী বিশ্বাস করি না। হয়তো সাধারণ কোনো কথা নিয়েই তার স্ত্রী জিদ করে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে জানান।

কোলা সদর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল করিম সরদার বলেন, এ স্কুলটি ফরহাদ বিশ্বাসের বাবার প্রতিষ্ঠিত। ১৯৯৫ সালে এই স্কুলে ফরহাদ বিশ্বাসের চাকরি হয়। ২০১২ সালে তিনি প্রধান শিক্ষক হন। স্কুলে যোগদানের পর থেকেই তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে স্কুলটির উন্নয়নমূলক কাজ করে আসছেন। তার স্ত্রীও আমাদের পাশের স্কুলেরই শিক্ষক। তার স্ত্রীকেও আমরা চিনি। ফরহাদ বিশ্বাস ও তার স্ত্রী পূরবী ইসলামের মধ্যে অত্যন্ত সুসম্পর্ক আমরা দেখেছি। সবসময় তারা দুজন হাসিখুশি থাকতেন। পূরবী ইসলামের মৃত্যুর পর তার ভাইবোনেরা ফরহাদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পরকীয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে। আমরা খুব কাছ থেকে ফরহাদ বিশ্বাসকে চিনি। তিনি পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়ার মতো মানুষ না। স্কুলের কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থী বা এলাকার একজন মানুষও ফরহাদ বিশ্বাসের চরিত্রের কোনো দোষ দিতে পারবেন না। তার মতো একজন আদর্শ শিক্ষককে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।

যে শিক্ষিকার সঙ্গে ফরহাদ বিশ্বাসের পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ করা হয়েছে, সেই শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, হেড স্যার ও তার স্ত্রীর সাথে আমাদের সব শিক্ষকেরই সুসম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু আমাকে ও হেড স্যারকে নিয়ে যে নোংরা গুজব রটানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার স্বামী-সন্তান রয়েছে, সুন্দর সাজানো সংসার রয়েছে। আমি কেন পরকীয়া করব। আমি নামাজ-রোজা করি, দ্বীনের পথে চলি। কেন আমাকে জড়িয়ে এই মিথ্যা গুজব রটানো হচ্ছে আমি নিজেও জানি না। আমি সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে ঘৃণাভরে এই মিথ্যা গুজবের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ফরহাদ বিশ্বাসের প্রতিবেশী মূলঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওহিদুজ্জামান বলেন, ফরহাদ বিশ্বাসের  স্ত্রী পূরবী ইসলাম খুব জেদি প্রকৃতির মানুষ ছিল। কারণে অকারণে সে তার স্বামীকে সন্দেহ করতো। ফরহাদ বিশ্বাস  প্রায়ই তার স্ত্রীর দ্বারা লাঞ্ছিত হতো। ফরহাদ বিশ্বাস সব কিছু আমার কাছে খুলে বলতো। এ নিয়ে আমি কয়েকবার তাদের মধ্যে সমঝেতা করে দিয়েছি। তবে সেগুলো কোন পরকীয়ার বিষয় ছিল না। তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর পূরবীর বোনেরা ফরহাদ বিশ্বাসের সাথে অন্য শিক্ষিকার যে পরকীয়ার অভিযোগ উঠিয়েছেন সেটা অসম্ভব। এটা মিথ্যা।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ সাহাদাত হোসেন বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও আমরা হাতে পাইনি। রিপোর্ট হাতে পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত গত ৯ এপ্রিল ভোরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার কোলা গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে কোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পূরবী ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মৃত্যু নিয়ে উভয় পরিবারে ভিন্নমত দেখা দেয়। পূরবীর ছেলে ও মেয়েসহ স্বামীর পরিবারের লোকজন বলছেন, তিনি অভিমান করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন।

কিন্তু পূরবীর তিন বোনের দাবি— পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় তাদের বোনকে নির্যাতনের পর গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করেছে বোনের স্বামী ফরহাদ বিশ্বাস ও ছেলে অর্ণব।

অন্যদিকে পূরবীর ভাই মেহেদী হাসান আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে বোনের স্বামী কোলা সদর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরহাদ বিশ্বাসকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ফরহাদ বিশ্বাস পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেলা কারাগারে রয়েছেন।

(আহৃত)

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LatestNews
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT