দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
অধিকৃত পশ্চিম তীরে গাড়িচাপার একটি ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটারের ছেলে। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রামাল্লার পশ্চিমে বেইত হোরন অবৈধ ইসরায়েলি বসতির নিকটবর্তী একটি চেকপয়েন্টে এই দুর্ঘটনা ও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সন্দেহভাজন এক ফিলিস্তিনি যুবককে গুলি করে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইসরায়েলি পুলিশের দাবি, ওই ফিলিস্তিনি যুবক গাড়ি নিয়ে চেকপয়েন্টে হামলা চালালে এক ইসরায়েলি সেনা আহত হন। পরে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে ওই ফিলিস্তিনি যুবক নিহত হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার জানান, তার ছেলে নেরিয়া দোভ বেন চানার জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকেরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরবর্তীতে জেরুজালেমের শারে জেদেক হাসপাতাল জানায়, আহত ওই সেনার একটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে, তবে তার শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নির্ধারিত ভাষণে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে রওনা হওয়ার আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হাসপাতালে গিয়ে আহত সেনাকে দেখে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু জানান, তিনি নেরিয়া লেইটারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তার দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন। এর আগে আরেক পোস্টে তিনি, তার স্ত্রী সারা এবং পুরো ইসরায়েলি জনগণ নেরিয়ার সুস্থতার জন্য একটি ‘অলৌকিক ঘটনা’র প্রার্থনা করছেন বলে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ইয়েখিয়েল লেইটারের আরেক ছেলে মোশে ইয়েদিদিয়া (৩৯) ২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজায় সামরিক দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিহত হয়েছিলেন। ৭ অক্টোবর ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর সেই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল।
নিহত ফিলিস্তিনির পরিচয় ও স্থানীয় পরিস্থিতি: এদিকে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সন্দেহভাজন হামলাকারী হিসেবে ২৯ বছর বয়সী মাহমুদ মোহাম্মদ মাহমুদ সুলাইমানের নাম প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তার মরদেহ নিজেদের হেফাজতে রেখেছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পর বেইত উর আল-তাহতাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় নিহত মাহমুদের পরিবারের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়।
বেইত উর আল-তাহতার মেয়র হাজেম সুলাইমান জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন মাহমুদের সঙ্গে তার কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। তিনি জানান, ইসরায়েলি বাহিনী গ্রামের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ায় সেখানকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ থমকে গেছে; বন্ধ রয়েছে সব ধরনের সামাজিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম। এছাড়া ইসরায়েলি সেনারা গ্রামের আরও বেশ কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে বলে জানান তিনি।