নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ড ভূইঘর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ফারজানা ইসলাম নামের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামকে আটক করেছে ফতুল্লা থানা পুলিশ।
আজ রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গাজী সুমন মাহতাব।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গত কাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফতুল্লার ভূইঘর এলাকার একটি বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ফারজানা ইসলাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গাজী সুমন মাহতাব বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।”
এদিকে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা আত্মহত্যা হলেও নিহতের পরিবারের দাবি, ফারজানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফারজানার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুরে। প্রায় তিন বছর আগে একই বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। চাকরির সুবাদে গত আড়াই মাস ধরে তাঁরা ফতুল্লার ভূইঘর এলাকার একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন।
ফারজানার বড় ভাই আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই ফারজানার ওপর স্বামী নাজমুল দুর্ব্যবহার ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। নির্যাতনের শিকার হয়ে ফারজানা একবার বাবার বাড়িতে গিয়ে টানা চার মাস অবস্থান করেন। সে সময় পরিবারের পক্ষ থেকে নাজমুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে সেই মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
আরিফুল আরও জানান, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার পর থেকেই তাঁরা ফারজানার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পান। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর রাত সাড় ১০টার দিকে নাজমুল নিজেই ফোন করে ফারজানার মৃত্যুর খবর স্বজনদের জানান। পুলিশ বর্তমানে ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে তদন্ত ও আটক স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।
(সূত্র: বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ)