ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে নতুন মুখের আগমন ঘটবে, নাকি সদ্য বিলুপ্ত কমিটির নেতারাই পুনর্বহাল হবেন—এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণার কথা বলা হলেও সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়ে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতৃত্ব বাছাইয়ে কিছুটা সময় নিতে পারে দলটি।
পুরোনো নেতৃত্ব বনাম নতুন মুখ
সদ্য বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের একাংশ মনে করেন, বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা এবং থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে যোগাযোগ বিবেচনায় রেখেই নতুন নেতৃত্ব গঠন করা উচিত।
বিলুপ্ত কমিটির ১ নম্বর সদস্য ও শীর্ষ পদপ্রত্যাশী আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারের মতে, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্য থেকেই যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে। একই সঙ্গে তিনি সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হকের বিগত আন্দোলন ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রশংসা করেন। এছাড়া বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইউসুফও আমিনুল হককে সভাপতি করার পক্ষে মত দিয়ে বলেন, কমিটিতে যেন কোনোভাবেই ‘হাইব্রিড’ বা বিতর্কিত কেউ জায়গা না পায়।
অন্যদিকে, ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর জানান, নতুন কমিটি নিয়ে নীতিনির্ধারকরাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে নেতৃত্ব নির্বাচনে সাংগঠনিক দক্ষতা এবং অতীতের ভূমিকাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এ বিষয়ে বলেন, মাঠের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমেই কমিটি গঠন করা উচিত, যা ভবিষ্যতের যেকোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
যে ঘটনার পর কমিটি বিলুপ্ত
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এর ঠিক ছয় দিন পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, মহানগর উত্তর যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং বিভিন্ন সংগঠনের ১৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়। যদিও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি রাড্ডার ঘটনার উল্লেখ করা হয়নি, তবে এই ঘটনার পরই মূলত সাংগঠনিক কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে কমিটিগুলো ভেঙে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দলের নাম ভাঙিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ও চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলে থাকার সময় আন্দোলনই ছিল প্রধান ফোকাস। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিকে মোকাবিলা করা এবং সাধারণ জনগণের আস্থা ও সমর্থন ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
যুবদল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, নতুন কমিটিতে সম্পূর্ণ বিতর্কমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির তরুণ নেতৃত্ব আনা হবে, যাতে কোনো ধরনের সমালোচনার সুযোগ না থাকে।
সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, সরকারি দলের দায়িত্বে থাকলে নেতাকর্মীদের আচরণ অত্যন্ত সতর্ক হওয়া জরুরি। কারণ, কর্মীদের যেকোনো ভুলের দায় সরাসরি সরকারের ওপর এসে পড়ে।
উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর ৬ সদস্য নিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয় এবং পরবর্তীতে ২৬ নভেম্বর তা ৫১ সদস্যে সম্প্রসারিত হয়। দীর্ঘ ২২ মাস কার্যকর থাকার পর অবশেষে সেই কমিটি বিলুপ্ত হলো। এখন নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় রয়েছেন দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।