ভেষজ গুণাবলীতে সমৃদ্ধ মসলার মধ্যে জিরা অন্যতম। সাম্প্রতিক সময়ে সুস্থতার জন্য সকালে খালি পেটে জিরা ভেজানো পানি পান করা বেশ জনপ্রিয় এক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সহজলভ্য ঘরোয়া এই পানীয়টি নিয়মিত খেলে শরীর ভেতর থেকে সুস্থ থাকে এবং ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। স্বাস্থ্যবিদদের মতে, সকালে খালি পেটে জিরা পানি পানের একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে।
হজমশক্তি বৃদ্ধি ও পেট ফাঁপা দূর:
জিরা পানি পরিপাক প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখতে বেশ কার্যকরী। সকালে খালি পেটে এটি পান করলে পাকস্থলীতে হজমে সহায়তাকারী উৎসেচক বা রসে নিঃসরণ বাড়ে, যা খাবার সহজে হজম হতে সাহায্য করে। এ ছাড়া যারা নিয়মিত গ্যাস, অম্বল কিংবা পেট ফাঁপার সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য পরিমিত মাত্রায় জিরা পানি পানের অভ্যাস বেশ আরামদায়ক।
ওজন নিয়ন্ত্রণ ও বিপাকক্রিয়া সচল:
শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে ভূমিকা রাখে জিরা পানি। এর ফলে শরীরে ক্যালরি পোড়ানোর প্রক্রিয়া গতিশীল হয়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও ত্বকের যত্ন:
জিরায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শরীর সতেজ ও পানিশূন্যতা দূরীকরণে:
দীর্ঘ সময় রাতভর ঘুমের পর শরীরে যে স্বাভাবিক পানির ঘাটতি তৈরি হয়, সকালে এক গ্লাস জিরা পানি পান করলে তা দ্রুত দূর হয়। এটি শরীরকে আর্দ্র ও সতেজ রাখার পাশাপাশি সারাদিনের কর্মক্ষমতা ও উদ্দীপনা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া জিরা পানি শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান দূর করে অভ্যন্তরীণ পরিশোধন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে বলেও ধারণা করা হয়।
সতর্কতা:
উপকারী হলেও অতিরিক্ত মাত্রায় জিরা পানি পান করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত সেবনে বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে কিংবা নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন চললে চিকিৎসকের পরমর্শ নিয়ে জিরা পানি পান করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
(সূত্র: আনন্দবাজার / বিডি-প্রতিদিন/টিএ)