শারদীয় দুর্গোৎসবের চিরায়ত আনন্দ ও সম্প্রীতি ভাগাভাগি করে নিতে পরিবার, স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর নানা প্রান্তের পূজামণ্ডপগুলোতে ঢল নেমেছে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের। প্রতিমা দর্শন, ভক্তিভরে প্রার্থনা, আলোকচিত্র ধারণ আর ঢাকের তালে আনন্দনৃত্য—সব মিলিয়ে প্রতিটি মণ্ডপ প্রাঙ্গণে এখন উৎসবের আমেজ।
গতকাল রোববার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) ‘সনাতন সমাজকল্যাণ সংঘ’ আয়োজিত পূজামণ্ডপে গিয়ে দেখা যায় এমনই আনন্দমুখর চিত্র। চলতি বছর তিথি জটিলতার কারণে সপ্তমীর তিথি দুই দিনে পড়ায় গতকালও মহাসপ্তমী উদ্যাপিত হয়েছে। তবে রাজধানীসহ দেশের অনেক মণ্ডপেই মহাসপ্তমীর যাবতীয় আচার-অনুষ্ঠান আগের দিন শনিবারই সম্পন্ন করা হয়। খামারবাড়ির মণ্ডপেও শনিবার সপ্তমী পূজা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান সেখানকার পুরোহিত অবিনাশ চক্রবর্তী।
আজ সোমবার মহাধুমধামে পালিত হচ্ছে দুর্গাপূজার প্রধান আকর্ষণ ‘মহাষ্টমী’। ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী, আজ সকাল সাড়ে নয়টায় রামকৃষ্ণ মিশনে উদযাপিত হবে পবিত্র ‘কুমারীপূজা’। আর ঐতিহ্যবাহী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকালে (সকাল ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৮টা ৪৩ মিনিটের মধ্যে) অনুষ্ঠিত হবে সন্ধিপূজা। পূজা অর্চনা শেষে দুপুরে ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে।
গতকাল খামারবাড়ির মণ্ডপে বড় বোন ও ভগ্নিপতির সঙ্গে মণ্ডপে এসেছিলেন পূজা ভৌমিক নামের এক দর্শনার্থী। মণ্ডপে পৌঁছেই তিনি দেবী দুর্গার প্রতিমার সামনে করজোরে প্রণাম জানান এবং কিছুক্ষণ নীরবে প্রার্থনা করেন। পরে স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিমার সামনে স্মৃতি হিসেবে ছবি তোলেন। পেশাজীবী পূজা জানান, গত বছর পরীক্ষার কারণে পূজার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলেও এবার চাকরি থেকে ছুটি পেয়ে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরছেন। গত তিন দিনেই তিনি ৩০টির বেশি মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বলে উল্লাস প্রকাশ করেন।
রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাসযোগে সর্বস্তরের দর্শনার্থীরা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের মণ্ডপে আসতে শুরু করেন। অনেকে আবার ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে নেমে হেঁটে মণ্ডপে প্রবেশ করেন।
মণ্ডপে ঢুকেই ভক্তদের দেবী প্রতিমার চরণে প্রণামি দেওয়া ও আরাধনা করতে দেখা যায়। সাউন্ড সিস্টেমে বাজতে থাকা পূজার সুরের ছন্দে শিশুদের আনন্দ নাচ পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। সন্ধ্যার পর ঢাকের আওয়াজ জোরালো হলে উৎসবের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়।
ধামরাইয়ের বণিক বাড়ি থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রতিমা দেখতে আসা ছোট্ট শিশু দেবাদৃতা কর্মকার নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে বলে, “আমার অনেক ভালো লাগছে। দুর্গা মায়ের অনেক সুন্দর সুন্দর প্রতিমা দেখছি।”
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের এই মণ্ডপে দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করছেন অবিনাশ চক্রবর্তী। বিশ্ব মানবতার কল্যাণ কামনায় তিনি বলেন, “জগজ্জননী মায়ের কাছে আমাদের প্রার্থনা, তিনি যেন পৃথিবীর সব মানুষকে সুস্থ ও নিরাপদে রাখেন। এই ধরণী যেন আরও সুন্দর হয় এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন যেন আরও সুদৃঢ় হয়।