বাংলার আকাশ ডেস্ক :
দুর্যোগ মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলাকে সহায়তা করতে ব্রাজিল, স্পেন, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল কাজ শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
উদ্ধার অভিযানের মধ্যে দেশটির লা গুয়াইরা এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৭২ ঘণ্টা আটকে থাকার পর এক বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। স্পেনের মিলিটারি ইমার্জেন্সি ইউনিটের সদস্যরা স্থানীয় সময় শনিবার ওই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। এর আগে একই এলাকা থেকে একটি নবজাতক ও তার মাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এছাড়া কলম্বিয়ার উদ্ধারকারী দল ১১ বছর বয়সী এক কিশোরকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করেছে।
তবে সময় যত যাচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত মানুষ উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে আসছে। এখনও অনেক পরিবার নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে অপেক্ষা করছে।
ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ইতালি, ব্রাজিল ও স্পেন থেকে ১ হাজার ৬০০-এর বেশি বিদেশি উদ্ধারকর্মী দেশটিতে পৌঁছেছেন। তবে লা গুয়াইরায় প্রায় ১০০টি ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির সংকট থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ৪৩০টির বেশি পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিরাপত্তার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলও সীমিত করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলে এখনও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ চলছে। সরকার জানিয়েছে, ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রায় ৬০ শতাংশ পুনরায় চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কলম্বিয়া, কোস্টারিকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হচ্ছে।
আইওএম জানিয়েছে, ভূমিকম্প-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা, খাদ্য ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পরও ভেনেজুয়েলাকে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে।