বাংলার আকাশ ডেস্ক :
ডিজেল সংকটের কারণে লাইটার জাহাজ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে না পারায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাসে বড় ধরনের ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এতে মাদার ভেসেলগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং বন্দরে জট বাড়ছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, লাইটার জাহাজগুলো পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় গভীর সমুদ্রে গিয়ে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস করতে পারছে না। ফলে আমদানি করা পণ্য সময়মতো খালাস না হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে বিলম্বের কারণে প্রতিটি জাহাজকে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে।
বর্তমানে বহির্নোঙরে থাকা কয়েকটি কয়লাবাহী জাহাজে খালাস কার্যক্রম থমকে রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমদানি করা এসব কয়লা লাইটার জাহাজের অভাবে জাহাজেই আটকে আছে। সংশ্লিষ্ট একটি বিদ্যুৎ কোম্পানি দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে প্রায় একশ’ মাদার ভেসেলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। এর মধ্যে অনেক জাহাজে খালাস চললেও বেশ কিছু জাহাজ পণ্য নামানোর অপেক্ষায় রয়েছে।
ব্যবসায়ী ও জাহাজ মালিকদের অভিযোগ, জ্বালানি সংকটের কারণে লাইটার জাহাজগুলো নিয়মিত ট্রিপ দিতে পারছে না। ফলে পণ্য পরিবহন চক্র ভেঙে পড়ছে এবং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা নজরদারি জোরদার করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। তবে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বাল্ক পণ্য খালাস হয়ে থাকে, যা লাইটার জাহাজের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হয়। এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।