বাংলার আকাশ ডেস্ক :
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে গত এক দশকে শতাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, জরাজীর্ণ পল্টুন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঘাট ব্যবস্থাপনাই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
বিআইডব্লিউটিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ বছরে এই নৌরুটে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪টি বড় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০৮ জন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘাট এলাকার রাস্তা অত্যন্ত ঢালু ও উঁচু-নিচু হওয়ায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফেরিতে ওঠা-নামার সময় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নিয়মিত যাত্রী আশরাফুল আলম সবুজ বলেন, নৌপথের চেয়ে ঘাটের সমস্যাই বেশি ভয়ংকর। নিরাপদ ও আরামদায়কভাবে ওঠানামার কোনো ব্যবস্থা নেই। দুর্ঘটনা ঘটলে কিছুদিন আলোচনা হলেও পরে সব আগের মতোই থেকে যায়।
আরেক যাত্রী আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ঘাট পারাপারে টাকা নেওয়া হলেও যাত্রীদের জন্য কোনো সুবিধা নেই। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য ওঠানামা অত্যন্ত কষ্টকর।
ব্যবসায়ী কাজল জানান, পণ্যবাহী ট্রাক ফেরিতে ওঠানামার সময় প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়ে নদীতে পড়ে যায়, এতে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়।
সম্প্রতি ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাস দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির নির্বাহী সদস্য মনজুর রহমান জানান, ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি বলেন, পুরোনো পল্টুন ও ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ সড়কই দুর্ঘটনার মূল কারণ।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্লাহ জানান, ঘাটগুলোর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু হবে।
রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, অতীতের অব্যবস্থাপনার কারণে এসব সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান জানান, দুর্ঘটনা রোধে ঘাটগুলোকে স্থায়ী ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হয়।
উল্লেখযোগ্য দুর্ঘটনাসমূহ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সংস্কার ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতেও এ নৌরুটে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যাবে।