বাংলার আকাশ ডেস্ক :
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া ভাষণের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ভাষণের পরপরই ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে এবং যুদ্ধের কৌশলগত লক্ষ্যগুলোর প্রায় সবই অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ অভিযানে ইরানের বিরুদ্ধে “দ্রুত, নির্ণায়ক ও ব্যাপক” হামলা চালানো হয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, এই অভিযানে এমন সাফল্য অর্জিত হয়েছে যা খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা যায়। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে জানান, যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে এবং এ সময়ে হামলা আরও জোরদার করা হবে। এমনকি ইরানকে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আক্রমণ জোরদার করে। দেশটির ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জানায়, তারা ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ১০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন এবং প্রায় ২০০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে।
আইআরজিসি দাবি করেছে, এসব হামলা ইসরাইলের এইলাত, তেল আবিব ও বেনি ব্রাক এলাকায় সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে এবং এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। লরেস্তান ও মিয়ানেহ অঞ্চলে বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর ও জেটিসহ বিভিন্ন অবকাঠামোরও ক্ষতি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে।