বাংলার আকাশ ডেস্ক :
শিশুদের জন্য চালু করা ফ্রি স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার সরবরাহ, অর্থ অপচয় এবং ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে এসেছে।
সম্প্রতি টিফিনে মেয়াদোত্তীর্ণ পাউরুটি খেয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনার পর পুরো প্রকল্প নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকশ কিলোমিটার দূর থেকে বাসি ও নিম্নমানের খাবার এনে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার ঘটনা তদন্তে প্রকল্পের একাধিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণেও রয়েছে চরম বৈষম্য—কেউ পুরো রুটি পেলেও কেউ পেয়েছে অর্ধেক বা শুধু একটি রুটি।
ইউসুফগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই উৎপাদন তারিখের রুটির মধ্যেও মানের পার্থক্য দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা। অনেক ক্ষেত্রে শক্ত ও নিম্নমানের খাবার শিশুদের দেওয়া হচ্ছে বলেও জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, দিনাজপুরে তৈরি খাবার ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৩০ থেকে ৫০ ঘণ্টা সময় নিয়ে পৌঁছাচ্ছে, ফলে অনেক সময় খাবার বিতরণের আগেই মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ থাকলেও এর বড় অংশ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান এককভাবে শত শত কোটি টাকার কাজ নিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া হ্যান্ডওয়াশ, প্রশিক্ষণ, আউটসোর্সিং ও ছাপাখানার কাজ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের অভিযোগও রয়েছে। শুধু হ্যান্ডওয়াশ কেনার জন্য প্রায় ৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানা যায়। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের নামেও ব্যয় ধরা হয়েছে কয়েক কোটি টাকা।
প্রকল্প পরিচালক অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বললেও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সমালোচনা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতের নামে চালু হওয়া এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এর মূল লক্ষ্যই ব্যাহত হবে।