বাংলার আকাশ ডেস্ক :
ফরিদপুরের সদরপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার মামলায় স্বামীকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রোববার দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশি প্রহরায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত ও মামলার সূত্রে জানা যায়, সদরপুর উপজেলার টেউটাখালী গ্রামের বাসিন্দা নুরজামাল মিয়ার সঙ্গে প্রায় আট বছর আগে একই এলাকার মুর্শিদা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন তিনি।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, নুরজামাল মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই স্ত্রীর পরিবারের কাছে টাকা দাবি করতেন। কয়েক দফায় টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ২০২৩ সালের ২৪ মে রাতে আরও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্ত্রীকে মারধর করেন তিনি। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে মৃত ভেবে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় মুর্শিদা বেগমকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা ফজলু মোল্লা বাদী হয়ে সদরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী রতন জানান, সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন।