বাংলার আকাশ ডেস্ক :
দেশে জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছতা, অপচয় ও দুর্নীতি রোধে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে একটি প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ। আমদানি থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি ফোঁটা জ্বালানির গতিপথ এক ক্লিকেই পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় ফুয়েল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।
এই সিস্টেমটি তৈরি করেছেন উদ্যোক্তা ও গবেষক প্রকৌশলী জাকারিয়া মল্লিক। তার উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এলসি খোলা থেকে শুরু করে গ্রাহকের হাতে জ্বালানি পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং প্ল্যাটফর্মে আনা সম্ভব হবে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে চালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা এবং ভোগান্তি জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। অনেক চালককে ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে—তেল আসলে যাচ্ছে কোথায়?
এই প্রেক্ষাপটে নতুন এই সিস্টেমে যানবাহনের লাইসেন্স নম্বর দিয়ে নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রতিটি গাড়িকে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেইজে যুক্ত করা হবে। ফিলিং স্টেশনে কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে কত লিটার জ্বালানি নেয়া হলো, তা তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ হবে। ফলে একই গাড়ি বারবার বিভিন্ন পাম্প থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি নিতে চাইলে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা পাওয়া যাবে।
এছাড়া শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত জ্বালানির হিসাবও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষণ করা হবে। এতে করে কোন খাতে কত জ্বালানি ব্যবহার হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।
উদ্ভাবক জাকারিয়া মল্লিক জানান, এই সিস্টেম চালু হলে প্রতিটি ফোঁটা জ্বালানির ট্র্যাকিং সম্ভব হবে এবং লাইসেন্সধারী যানবাহনের বাইরের অবৈধ ব্যবহারও ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সঠিক তথ্যের অভাব। এমন একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘদিনের অনিয়ম দূর করা সম্ভব হবে।
প্রযুক্তিবিদদের মতে, বর্তমানে বিদ্যমান প্রযুক্তি ব্যবহার করেই স্বল্প খরচে এই ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। ভবিষ্যতে এই ডেটা বিশ্লেষণ করে জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহ নিয়ে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা সহজ হবে।
এদিকে সরকার ও পাম্প মালিকরা পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকার কথা জানালেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি থামছে না। তাই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—সঠিক নজরদারি না থাকলে এই জ্বালানি যাচ্ছে কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর বিপণন কাঠামো গড়ে তোলাই হতে পারে এই সমস্যার টেকসই সমাধান।