দেশের বাজারে দীর্ঘ দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সরবরাহ ঘাটতির মধ্যেই আবার বাড়ছে এই জ্বালানির দাম। এবার গ্রাহক পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর আগে গত মাসেও এই আকারের সিলিন্ডারে ২১২ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এলপিজির এই নতুন মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। যা আজ রাত আটটা থেকেই সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।
নতুন সমন্বিত মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আগের ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। সেই হিসেবে প্রতি কেজি এলপিজির নতুন দর দাঁড়িয়েছে ১৭১ টাকা ৬৮ পয়সা। এছাড়া যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে বিইআরসি দাম নির্ধারণ করে দিলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। গত দেড় মাস ধরেই খুচরা বাজারে তীব্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বিইআরসির ঘোষিত দর বাজারে বাস্তবায়ন না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভোক্তারা।
খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে প্রায় এক কোটি গ্রাহক নিয়মিত জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করেন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির রান্নার কাজে। পুরো এলপিজি খাতের প্রায় ৯৯ শতাংশই বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে, যারা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করে দেশে সরবরাহ করে থাকে। গত দুই মাসে দেশে এলপিজি আমদানি হ্রাস না পেলেও বাজারে এমন কৃত্রিম সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। তবে তদারকির অভাবে বাজারে বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি কেনা সাধারণ ভোক্তার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।