নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নতুন একটি কূপে গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে ‘সুন্দলপুর সাউথ-১’ নামের এই অনুসন্ধান কূপটিতে খনন শেষে ড্রিল স্টিম টেস্ট (ডিএসটি) পরীক্ষায় গ্যাসের বাণিজ্যিক প্রবাহ নিশ্চিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কূপের মুখে আগুন জ্বালিয়ে প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন বাপেক্সের প্রকৌশলীরা।
বাপেক্সের ‘সুন্দলপুর সাউথ-১’ অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত ১২ জুলাই কূপটির খননকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট ৩ হাজার ২৯০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৫৫১ থেকে ২ হাজার ৫৫৭ মিটার গভীরতার মধ্যবর্তী স্তরে গ্যাসের প্রবাহ পাওয়া গেছে।
প্রকল্প পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক বলেন, “দুপুরের দিকে কূপে পরীক্ষামূলকভাবে আগুন জ্বালিয়ে ডিএসটি পরীক্ষা করা হলে গ্যাসের প্রবাহ নিশ্চিত হয়। তবে কূপটিতে গ্যাসের মোট মজুত এবং দৈনিক উত্তোলন সক্ষমতা ঠিক কতটুকু হবে, তা চূড়ান্তভাবে জানতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত বিভিন্ন পরীক্ষা ও ডেটা বিশ্লেষণের কাজ চলছে।”
বাপেক্স কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন যে, এই কূপে গ্যাস পাওয়ার মাধ্যমে দেশে ৩১তম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গ্যাসের বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা ও মজুতের পরিমাণ যাচাই শেষে দ্রুত পাইপলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংযোগ সম্পন্ন হলে উৎপাদিত গ্যাস সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় একই গ্যাসক্ষেত্রের আওতায় সুন্দলপুর-১, সুন্দলপুর-২ ও সুন্দলপুর-৩ নামে তিনটি কূপ খনন করা হয়েছিল। রামপুর ইউনিয়নের নতুন কূপটি একই ভূগর্ভস্থ কাঠামোর অংশ হওয়ায় এর নামকরণ করা হয়েছে ‘সুন্দলপুর সাউথ-১’।