যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ বা চরম বৈরিতার পরিস্থিতি তৈরি হলে তেহরান দীর্ঘদিনের পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণের নীতি বা ফতোয়া বহাল রাখবে কি না, তা নিয়ে বর্তমানে ইরানে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব ও শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই।
গতকাল শনিবার (অক্টোবর ৩১, ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানান তিনি।
মহসেন রেজাই আরও জানান, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক ও পারমাণবিক বিরোধ নিরসনে ওয়াশিংটনের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি ও সুরে উল্লেখযোগ্য নমনীয়তা লক্ষ্য করা গেছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার কূটনৈতিক প্রয়াসের অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রেজাইয়ের কাছে একটি বিশেষ চিঠি প্রেরণ করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই চিঠিটি মহসেন রেজাইয়ের নিকট পৌঁছায়। ওই চিঠিতে ভ্যান্সের নেতৃত্বে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে শুরু থেকেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে আলোচনার মূল এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছে।
চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করে মহসেন রেজাই বলেন, “আমি চিঠিটি পড়েছি এবং এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দিইনি। তবে মার্কিন প্রশাসনের সুর ও বক্তব্য সম্পূর্ণ বদলে গেছে।” ওয়াশিংটনের এই পরিবর্তনকে তিনি একটি ‘ইতিবাচক লক্ষণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেন, এটি প্রমাণ করে যে ইরান তার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও বিজয় সফলভাবে সুসংহত করেছে।
চিঠির বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়ে মন্তব্য করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানালেও রেজাই স্পষ্ট করে দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মূল দাবিগুলো পূরণ করার পরই কেবল পরমাণু ইস্যু নিয়ে কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হতে পারে।
কাতার সরকারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও, শনিবার এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন যে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি কোনো বৈঠকে বসার পরিকল্পনা তাঁদের নেই।
(সূত্র: মিডল ইস্ট আই)