বাংলার আকাশ
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হচ্ছে। ওয়াশিংটনের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ধারাবাহিক পদক্ষেপের জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এর আগে হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি সংঘাত বন্ধে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান। তবে নতুন হামলার কারণে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরান জানিয়েছে, তারা কোনো ধরনের চাপ বা সামরিক হুমকির মুখে আলোচনায় বসবে না। জাতিসংঘে দেশটির প্রতিনিধিরা স্পষ্টভাবে বলেছেন, পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতেই কেবল আলোচনা সম্ভব।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, সাম্প্রতিক অভিযানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নজরদারি রাডার এবং সামরিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। অপরদিকে তেহরান অভিযোগ করেছে, হামলায় কিছু বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাও ঘটেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল।
সংঘাতের প্রভাব বিশ্ববাজারেও পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব বিভিন্ন দেশের পরিবহন ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অনুভূত হচ্ছে।
তবে উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় সংঘাত নিরসনের উদ্যোগ চলছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। যদিও পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক দূরে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।