বাংলার আকাশ ডেস্ক :
অনুমোদন পেলে এটি হবে বাংলাদেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট। একই সঙ্গে এটি বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীরও প্রথম বাজেট উপস্থাপন।
প্রায় দুই দশক পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন কোনো সরকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। সর্বশেষ ২০০৬-০৭ অর্থবছরে বিএনপি সরকারের বাজেট পেশ করেছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান।
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, মূল্যস্ফীতির চাপ, রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারের বাজেটকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের প্রতিফলন ঘটবে এই বাজেটে।
সূত্র অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট হতে যাচ্ছে। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং সম্ভাব্য ঘাটতি থাকতে পারে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। পাশাপাশি প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা ও ঋণ থেকে আসবে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।
এদিকে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর ব্যবস্থার সংস্কার এবং মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীকে স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে বাজেটে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কর কাঠামোতেও পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় প্রধানমন্ত্রীসহ সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। নতুন সংসদের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য এবারই প্রথমবারের মতো বাজেট অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন।