বাংলার আকাশ ডেস্ক :
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বাংলাদেশ সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে এসে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। সফরের অংশ হিসেবে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়।
সফরকালে তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং সেখানে অবস্থানরত বাস্তুচ্যুত মানুষের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকেরও কর্মসূচি রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে দেশটির সক্রিয় ভূমিকা বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময়, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তারা মনে করেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য বহুমুখী আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে তুরস্কের মতো একটি প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেশের কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করলে বাংলাদেশ পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিবেশে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অগ্রগতি তাই শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, দেশের সামগ্রিক কূটনৈতিক সক্ষমতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।