বাংলার আকাশ ডেস্ক :
জুলাই অভ্যুত্থানের পর দায়ের করা একাধিক মামলায় গুরুতর অসংগতি ও ভুয়া অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে তদন্তে। একটি মামলায় ৪০টি গুলি করার দাবি করা হলেও তদন্তে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, কিছু মামলায় জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানো হয়েছে, আবার কোথাও অস্তিত্বহীন ব্যক্তিকেও আহত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় দায়ের হওয়া কিছু মামলায় এমন অনিয়ম ধরা পড়েছে।
একটি ঘটনায় দেখা যায়, যাত্রাবাড়ীতে আহত হওয়ার অভিযোগে করা মামলায় গুলির কোনো অস্তিত্বই মেলেনি। একইভাবে অন্য একটি মামলায় আহত ব্যক্তির অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি তদন্তকারী সংস্থা।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, অনেক মামলাই ব্যক্তিগত বিরোধ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে বাদীর অজান্তেই আসামির নাম যুক্ত করা হয়েছে, যা মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ভুয়া মামলা শনাক্তে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে এবং তদন্তে যেসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে না, সেগুলো আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্রে জানা গেছে, পর্যালোচনাধীন একাধিক মামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভুয়া অভিযোগ শনাক্ত হয়েছে। তবে যেসব মামলায় প্রমাণ মিলেছে, সেগুলোতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ভুয়া মামলার কারণে বিচার ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রকৃত ঘটনার গুরুত্বও অনেক ক্ষেত্রে আড়াল হয়ে যাচ্ছে।