প্রতিষ্ঠার ৯ বছর পার হলেও পুরোপুরি কার্যকর হয়ে উঠতে পারেনি শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্র। এতে সিলেট অঞ্চলের চা বাগান মালিকরা এখনো বাধ্য হচ্ছেন চট্টগ্রাম চা নিলাম কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করতে। ফলে বাড়ছে পরিবহন ব্যয় ও সময়, পাশাপাশি চায়ের গুণগত মান নিয়েও তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ।
২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চা নিলাম কেন্দ্র শ্রীমঙ্গল। সিলেট অঞ্চলে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ চা উৎপাদন হলেও এর প্রায় ৯৮ শতাংশ এখনো চট্টগ্রাম নিলাম কেন্দ্রেই বিক্রি হচ্ছে।
চা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘ দূরত্বের কারণে সিলেট থেকে চট্টগ্রামে চা পাঠাতে প্রায় ৩৮৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে পরিবহন খরচ বাড়ছে এবং চায়ের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
লাক্কাতুরা চা বাগানের ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, শ্রীমঙ্গল নিলাম কেন্দ্র কার্যকর হলে খরচ কমবে এবং চায়ের মানও ভালো রাখা সম্ভব হবে।
ব্যবসায়ীদের মতে, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, গুদাম সুবিধার ঘাটতি, ব্যাংকিং জটিলতা এবং প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে শ্রীমঙ্গল নিলাম কেন্দ্র প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোতে পারেনি।
সিলেট নিনা-আফজাল টি কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল রশীদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে, ফলে ব্যবসায়ীরা সিলেট কেন্দ্রের দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্রের পরিচালক এস এম এন ইসলাম মুনির বলেন, কেন্দ্রটি কার্যকর করতে হলে সরকারি উদ্যোগ ও নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। তালিকাভুক্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে কেন্দ্রটি আরও সক্রিয় হবে।
বর্তমানে শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্রে মৌসুমে মাত্র ২০ থেকে ৩০ লাখ কেজি চা নিলাম হয়। অন্যদিকে চট্টগ্রাম চা নিলাম কেন্দ্রে একই সময়ে ৮ থেকে ১০ কোটি কেজির বেশি চা কেনাবেচা হয়।