বাংলার আকাশ ডেস্ক :
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ত্রিভুজ প্রেমের জেরে সহকর্মী ইয়াকুবকে হত্যার ঘটনায় রুমমেট সাব্বিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুরুতে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করা হলেও পরে তদন্তে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত হয়।
পুলিশ জানায়, একটি ফেসবুক আইডিকে কেন্দ্র করে দুই রুমমেটের মধ্যে প্রেম ও সম্পর্কজনিত জটিলতা তৈরি হয়। ওই আইডির মাধ্যমে একজন নারীর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আইডিটি ভুয়া হতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ এবং বিষয়টি ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
গত ২৩ এপ্রিল কামরাঙ্গীরচরের কালুনগরের ম্যাটাডোর শিল্প পার্কের কর্মচারী মেসের টয়লেট থেকে ইয়াকুবের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে প্রথমে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও পরে গলাকাটা অবস্থায় মরদেহ পাওয়ায় এটি হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
তদন্তে জানা যায়, ফেসবুক আইডিকে কেন্দ্র করে সন্দেহ ও প্রতিহিংসা থেকে সাব্বির এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। তিনি ধারণা করেন, ইয়াকুব তার সম্পর্ক নষ্ট করছে এবং প্রেমিকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। এ ক্ষোভ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সাব্বির হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং পরে ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পেছনে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা ফেক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে প্রতারণার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভুয়া আইডি ব্যবহার করে দুজনকেই ফাঁদে ফেলা হতে পারে।
এদিকে মেস এলাকায় সিসিটিভি না থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর সেখানে নতুন করে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।