বাংলার আকাশ ডেস্ক :
দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে বর্তমানে ৪০ লাখেরও বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, মামলার এই বিশাল জট দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকার একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ময়মনসিংহ-৬ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। নেওয়া পদক্ষেপগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হলে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, সিভিল প্রসিডিউর কোডে আধুনিকায়ন আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে সমন জারি এখন থেকে এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে করা যাবে। পাশাপাশি এফিডেভিটের মাধ্যমে আরজি ও লিখিত জবাব দাখিল এবং কিছু ক্ষেত্রে মূল মামলার মাধ্যমেই ডিক্রি বাস্তবায়নের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর অংশ হিসেবে সাক্ষ্যগ্রহণ অনলাইনে গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী জানান, মামলার চাপ কমাতে ইতোমধ্যে ৮৭১টি নতুন আদালত এবং ২৩২টি বিচারক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। আরও শতাধিক বিচারক পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নতুন সিভিল জজ ও আদালত কর্মচারী নিয়োগের কাজও এগিয়ে চলছে।
নারী ও শিশু নির্যাতনসহ গুরুত্বপূর্ণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়া জেলা পর্যায়ে লিগ্যাল এইড কার্যক্রম সম্প্রসারণ, মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ এবং ১৬৬৯৯ হটলাইন চালুর মাধ্যমে আইনি সহায়তা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আদালতের কজলিস্ট এখন সম্পূর্ণ অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে, ফলে মানুষ ঘরে বসেই মামলার তারিখ জানতে পারছেন এবং বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বেড়েছে।
এছাড়া বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে জালিয়াতি কমবে এবং সংশ্লিষ্ট মামলার সংখ্যা হ্রাস পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী।