বাংলার আকাশ ডেস্ক :
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইরানের রাজধানী তেহরানে সোমবার দিবাগত রাতজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। তীব্রতার দিক থেকে এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ রাত হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
তেহরান থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শহরের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের ভবন কেঁপে উঠেছে বলে জানা গেছে।
খবরে বলা হয়, তেহরানের উত্তরের কারাজ এলাকায়ও বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া পূর্ব তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় চালানো হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ৪০ জন ইরানি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সোমবার রাতজুড়ে তেহরানের আকাশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সক্রিয় দেখা গেছে। বিশেষ করে পূর্ব আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলার আলোর ঝলকানি দেখা যায়।
এদিকে ইসফাহান শহরেও তীব্র বোমাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে গভর্নরের কার্যালয়সহ ইউনেস্কো স্বীকৃত একটি ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তাবরিজ অঞ্চল থেকেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
কিছু সূত্র দাবি করছে, ইসফাহানের বিস্ফোরণগুলো ওই অঞ্চলের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কাছাকাছি ঘটেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় একটি অংশ ইসফাহানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সংরক্ষিত রয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর পাল্টা প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি, ঘোষিত অভিযানের ‘৩৩তম ধাপ’ শুরু হয়েছে এবং এখন থেকে এক হাজার কেজির কম ওজনের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা হয়েছে।