বাংলার আকাশ ডেস্ক :
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দিনাজপুরের হিলি এলাকার কামারপল্লীগুলো এখন ব্যস্ততার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতিসহ কোরবানির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামের চাহিদা। ফলে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন স্থানীয় কামাররা।
হিলি এলাকার কামারশালাগুলোতে এখন অবিরাম শোনা যাচ্ছে হাতুড়ির টুংটাং শব্দ। কয়লার আগুনে লোহা পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টানা কাজ করছেন কারিগররা, যেন দম ফেলার সময়ও নেই।
স্থানীয় কামাররা জানান, ঈদুল আজহাই তাদের সবচেয়ে বড় মৌসুম। বছরের অন্য সময় কাজ কম থাকলেও এ সময় অর্ডারের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তবে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ায় ঐতিহ্যবাহী এই পেশা দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে।
একজন কামার জানান, আগের মতো এখন আর অনেক কামার নেই। হাতে গোনা কয়েকজনই এই পেশায় টিকে আছেন। তবুও ঈদ মৌসুমে কাজের চাপ বাড়ায় কিছুটা হলেও সারা বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে।
বর্তমানে বাজারে চাপাতি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়, হাঁসুয়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, ছোট ছুরি ৫০ থেকে ১০০ টাকা এবং বড় ছুরি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি পুরোনো সরঞ্জাম শান দিতেও ভিড় করছেন অনেকে।
ক্রেতাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, ঈদের সময় সুযোগ বুঝে দাম কিছুটা বাড়ানো হয়। আবার সীমিত দোকান থাকার কারণে বাধ্য হয়েই এসব পণ্য কিনতে হচ্ছে তাদের।
সব মিলিয়ে হিলির কামারপল্লীগুলো এখন ঈদবাজারের চাপে সরগরম। কারিগররা আশা করছেন, শেষ মুহূর্তে বিক্রি ভালো হলে তাদের সারা বছরের আর্থিক চাপ কিছুটা হলেও কমবে।