বাংলার আকাশ ডেস্ক :
জামায়াতের সঙ্গে জোটে থাকা নেতাদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য সংগঠনটির আমিরের নির্দেশে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংগঠনটির আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী এই কমিটি গঠন করেন বলে জানা গেছে। কমিটিকে জোটে থাকা নেতাদের ভূমিকা ও অবস্থান যাচাই করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটে থাকা হেফাজতের শীর্ষ ও মধ্যম পর্যায়ের নেতাদের কারণে সংগঠনের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল। বিশেষ করে নির্বাচনী জোট ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
গত কয়েক নির্বাচনে বিভিন্ন ইসলামপন্থি দল ও নেতারা পৃথক জোটে অংশ নেয়। এর মধ্যে জামায়াত-সমর্থিত জোট এবং বিএনপি-সমর্থিত জোট—দুই পক্ষেই হেফাজতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতি দেখা যায়।
এ নিয়ে সংগঠনের ভেতরে ঐক্য ও অরাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর একাধিক নেতা জানান, সংগঠনের ভেতরে কিছু নীতিগত দূরত্ব থাকলেও এটি ভাঙনের দিকে যাচ্ছে—এমন ধারণা সঠিক নয়।
সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশীরুল্লাহ বলেন,
“নীতিগত কিছু পার্থক্য আছে, তবে সংগঠন ঐক্যবদ্ধ আছে।”
যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন,
“সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে সংগঠনকে দুর্বল করার জন্য।”
বিশ্লেষকদের মতে,
২০১০ সালে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর আন্দোলনের পর থেকে সংগঠনটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।