বাংলার আকাশ ডেস্ক :
ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের কৌশলগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি অর্জনে বড় ভূমিকা রেখেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আগেই তারা মাত্র ৩৮ দিনের মধ্যে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই সাফল্যের ফলে কূটনৈতিক আলোচনায় শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন লেভিট।
তিনি আরও বলেন, সামরিক অগ্রগতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে থেকে কূটনৈতিক সমাধানের পথ সুগম হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্র তাদের বড় অর্জন হিসেবে দেখছে।
অন্যদিকে, ইরানও এই যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের সফলতা হিসেবে দাবি করছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ভাষ্য, তারা তাদের বেশিরভাগ লক্ষ্য অর্জন করেই এই বিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই অর্জনকে রাজনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে তারা ইসলামাবাদ-এ আলোচনায় বসতে চায়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আগে জানিয়েছিলেন, ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করা হলে তারাও যুদ্ধবিরতিতে যাবে। একই সঙ্গে তিনি দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের কথাও উল্লেখ করেন।
এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ-এর বিশেষ অনুরোধে ইরানে বড় ধরনের হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে সম্মত হয়েছেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির-এর ভূমিকাও উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে জানান, এই সিদ্ধান্তের প্রধান শর্ত হচ্ছে—ইরানকে দ্রুত ও নিরাপদভাবে হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে আসন্ন কূটনৈতিক আলোচনার ওপর।