বাংলার আকাশ ডেস্ক :
ভুটানে এক রাতের ব্যবধানে পরপর তিনটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে প্রথম ও সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের কম্পন বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকাতেও অনুভূত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয়। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভুটানের থিম্পুর উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২৪ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পটির মাত্রা বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে ৫ দশমিক ৬ থেকে ৫ দশমিক ৮ এর মধ্যে ছিল।
প্রথম কম্পনের পর বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, রাজধানী ঢাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। অনেক স্থানে আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি থেকে বের হয়ে খোলা জায়গায় অবস্থান নেন।
এরপর প্রথম ভূমিকম্পের প্রায় ১১ মিনিট পর রাত ১১টা ৪৮ মিনিটে একই অঞ্চলে ২ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। পরে রাত ১২টা ২২ মিনিটে ২ দশমিক ৪ মাত্রার আরও একটি কম্পন অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরবর্তী দুটি কম্পন মূল ভূমিকম্পের আফটারশক বা পরাঘাত হতে পারে।
এদিকে একই সময়ে এশিয়ার আরেক প্রান্তে ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপ এলাকায় শক্তিশালী ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন, জাপান ও ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, কিছু উপকূলীয় এলাকায় অস্বাভাবিক উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বড় ধরনের কম্পনের পর আফটারশকের সম্ভাবনা থাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।