বাংলার আকাশ ডেস্ক :
দেশে জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের দাম বাড়ার প্রভাবে ধান উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক ধান চাষ থেকে সরে গিয়ে অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। এতে কোথাও কোথাও জমি অনাবাদী পড়ে থাকছে, আবার কোথাও ধানের বদলে ভুট্টা বা তামাক চাষ বাড়ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, ধান চাষে লাভ খুবই কম। সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ—সব মিলিয়ে খরচ অনেক বেশি হলেও ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না। ফলে ক্ষতির আশঙ্কায় অনেকেই ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ডিজেল সংকটের কারণে অনেক এলাকায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকজন কৃষক জানান, টানা কয়েকদিন ডিজেল না পাওয়ায় তারা সেচ পাম্প চালাতে পারেননি, যা সরাসরি ফসল উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব, বিশেষ করে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের কৃষি খাতে চাপ তৈরি করছে। এই অবস্থায় পরিকল্পিত কৃষিনীতি ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করা জরুরি।
তাদের মতে, কৃষিপণ্য আমদানিতে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়, তার একটি অংশ যদি সরাসরি কৃষকদের সহায়তায় ব্যবহার করা যায়, তাহলে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিখাতে কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে চাল ও গম আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, যার বড় একটি অংশই চাল আমদানিতে গেছে। এতে দেশীয় উৎপাদনের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কোন পণ্য দেশে উৎপাদন করা হবে আর কোনটি আমদানি করা হবে—এই ভারসাম্য ঠিক রাখা জরুরি। অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে, কৃষিজমি কমে যাওয়া, জলাশয় শুকিয়ে যাওয়া এবং অনাবাদী জমির পরিমাণ বাড়ার বিষয়টিও উদ্বেগজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।