বাংলার আকাশ ডেস্ক :
ফরিদপুরের উন্নয়ন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন এবং জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে শহরের থানা রোডে নাগরিক কমিটির আয়োজনে বিজয়ের বর্ষপূর্তি ও নাগরিক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তিনি আন্দোলনে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সে অনুযায়ী জনগণের সেবায় মনোযোগী হতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
ফরিদপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়া ফরিদপুরকে বিভাগ ও সিটি করপোরেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠা, কৃষকদের সুবিধার্থে উপজেলাভিত্তিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং একটি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ফরিদপুরবাসীর যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। বক্তব্য দেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. ইলিয়াস মোল্লা, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য অধ্যাপক আবদুত তাওয়াব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, শিল্পপতি মীর নাছির হোসেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক কাজী রিয়াজসহ অন্যান্যরা।
সভা শুরুর আগে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
এর আগে একই দিনে শহরের শিশু একাডেমিতে নজরুল বর্ষের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম প্রতীক। নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারলে তারা দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।