বাংলার আকাশ ডেস্ক :
নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলা এলাকায় মোবাইল ব্যাংকিং সেবার (বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোড) ব্যবসায়ী মো. মোতালেব হোসেনকে অপহরণের পর হত্যা করার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, তার বিকাশ অ্যাকাউন্টের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। প্রধান আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদি এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মূল অভিযুক্ত জাকির (৪৫), তার সহযোগী ওমর ফারুক (২২) এবং সোহেল (৪৯)। তাদের কাছ থেকে নিহতের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে উত্তোলন করা ৮৬ হাজার টাকা, হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ বহনে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত মিশুক, তিনটি মোবাইল ফোন এবং নিহতের ব্যবহৃত একটি টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বন্দর উপজেলার সেলসারদী এলাকা থেকে জাকিরকে এবং শহরের মাসদাইর এলাকা থেকে অপর দুই সহযোগীকে আটক করা হয়। এর আগে একই দিন সকালে জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডসংলগ্ন ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের পাশে লেপ-তোশকে মোড়ানো অবস্থায় মোতালেব হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
ঘটনার পর নিহতের মেয়ে সুমনা আক্তার মিম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাত দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, নিহত মোতালেব হোসেনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলায় হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। স্থানীয় বাজারে তার একটি লাইব্রেরি ও বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা ছিল।
তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ দেখতে পায়, ঘটনার দিন সকালে জাকির মোতালেব হোসেনকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। পরে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে নিহতের ব্যবহৃত টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়। জাকিরকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর দুই সহযোগীকেও আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির জানান, ঘটনার দিন সকালে মোতালেব হোসেনকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৬ হাজার টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সহযোগীদের সহায়তায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ভোরের দিকে মরদেহ লেপ-তোশকে পেঁচিয়ে একটি মিশুকে করে এনে সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদি বলেন, অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, ব্যবহৃত যানবাহন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত। প্রধান আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।