কেপ ক্যানাভেরাল থেকে ১০ দিনের ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরেছেন Artemis II Mission–এর চার নভোচারী। নাসার তথ্যমতে, সবাই সুস্থ আছেন এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বড় কোনো জটিলতা পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘ সময় মহাকাশে অবস্থানের ফলে নভোচারীদের শরীরে কিছু সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
গত ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে Space Launch System (SLS) রকেটে চড়ে যাত্রা শুরু করে মিশনটি। ১০ দিন পর তারা Orion spacecraft–এ করে প্রশান্ত মহাসাগরে সফলভাবে অবতরণ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণ প্রায় না থাকায় শরীরে একাধিক পরিবর্তন ঘটে—
১. পেশি ও হাড়ের ক্ষয়
মাধ্যাকর্ষণ না থাকায় পেশি দুর্বল হয়ে যায় এবং হাড়ের ঘনত্ব কমে।
২. ভারসাম্য ও মাথা ঘোরা
পৃথিবীতে ফিরে আসার পর হাঁটতে অসুবিধা, মাথা ঘোরা ও ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে।
৩. চোখ ও মস্তিষ্কে পরিবর্তন
মস্তিষ্কে তরল জমা, চোখের গঠন পরিবর্তন এবং দৃষ্টিশক্তিতে প্রভাব পড়তে পারে।
৪. হৃদযন্ত্র ও রক্তসঞ্চালনে প্রভাব
দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকলে হৃদযন্ত্র দুর্বল হতে পারে এবং রক্ত চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়।
৫. রেডিয়েশন ঝুঁকি
মহাকাশের উচ্চমাত্রার বিকিরণের কারণে দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, মহাকাশ থেকে ফিরে আসার পর মানসিক পরিবর্তন, মনোযোগে ঘাটতি এবং শরীরের সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে।
আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী, উচ্চগতির মহাকাশ ভ্রমণে সময় পৃথিবীর তুলনায় সামান্য ধীরগতিতে চলে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে নভোচারীদের বয়সগত পরিবর্তনও সামান্য ভিন্ন হতে পারে।
তবে আর্টেমিস-২ মিশনের মতো স্বল্পমেয়াদি অভিযানে এসব পরিবর্তন সাধারণত খুবই সীমিত হয় বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।