বাংলার আকাশ ডেস্ক :
রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন অবস্থান করে প্রায় ১২ লাখ টাকার ভাড়া পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হোটেলে অবস্থানকালে তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণিতে অবস্থিত একটি হোটেলে গত বছরের ২৫ জুলাই দুটি কক্ষ ভাড়া নেন এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ারসহ কয়েকজন। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা প্রায় আট মাস ওই কক্ষগুলো ব্যবহার করলেও বুকিং বাবদ জমা দেওয়া ১০ হাজার টাকা ছাড়া আর কোনো ভাড়া পরিশোধ করেননি।
হোটেল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কক্ষ ছেড়ে চলে যান। তাদের ব্যবহৃত কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী কক্ষে পড়ে ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া হোটেল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, অবস্থানকালে কক্ষে বাইরের লোকজন, বিশেষ করে নারী অতিথিদের যাতায়াত এবং মদ্যপানের মতো অনিয়মের ঘটনাও ঘটেছে। তাদের দাবি, একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশও হোটেলে এসেছিল।
হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার রুহুল আমিন বলেন, ভাড়া পরিশোধের জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও শুরুতে আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে আর টাকা পরিশোধ করা হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বকেয়া ভাড়ার বিষয়ে তাগাদা দিলে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল।
হোটেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি লিখিতভাবে এনসিপির কাছে জানায়। অভিযোগে ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ারের পাশাপাশি সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন এবং তাওসীপের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দলে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা শৃঙ্খলাভঙ্গের সুযোগ নেই এবং অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।