বাংলার আকাশ ডেস্ক :
দেশে হামের নতুন রোগী ভর্তি কমতে শুরু করলেও জটিলতায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে উদ্বেগ কমছে না। চিকিৎসকদের মতে, হামের পাশাপাশি অ্যাডিনো ভাইরাস ও হিউম্যান বোকা ভাইরাসের সংক্রমণ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দিচ্ছে, ফলে অনেক শিশুর মধ্যে গুরুতর নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
রাজধানীর শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে এখনও হাম-পরবর্তী জটিলতায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে। নতুন রোগীর সংখ্যা কমলেও দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অনেক শিশুর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ জ্বর ও সর্দি দিয়ে অসুস্থতা শুরু হলেও পরে তা নিউমোনিয়া এবং ফুসফুসের মারাত্মক সংক্রমণে রূপ নিচ্ছে। এতে শিশুদের সুস্থ হতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, হামের কারণে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে অন্যান্য ভাইরাস সহজেই শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। বিশেষ করে অ্যাডিনো ভাইরাস ও হিউম্যান বোকা ভাইরাসের উপস্থিতি রোগের জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, হাম থেকে সুস্থ হওয়ার পরও শিশুদের অন্তত দেড় মাস বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও যত্নের মধ্যে রাখতে হবে। এ সময় পুষ্টিকর খাবার, পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৮৭ জনের মধ্যে হাম বা হামসদৃশ উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫২৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯১ শিশু। ফলে এ সময়ের মধ্যে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২০ জনে।
চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা নিশ্চিত করা এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই এই রোগের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।