বাংলার আকাশ ডেস্ক :
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে চরম চাপের মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আয় কিছুটা বাড়লেও ব্যয়ের তুলনায় তা কম হওয়ায় অনেকেই আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
রিকশা মিস্ত্রী ইসমাইলের মতো অনেক শ্রমজীবী মানুষ প্রতিদিন সীমিত আয়ে পরিবার চালাতে গিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। আয় বৃদ্ধি পেলেও নিত্যপণ্যের দামের দ্রুত বৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুলাইয়ে যে পণ্য বা সেবা কিনতে ১০০ টাকা ব্যয় হতো, তা চলতি বছরের এপ্রিলে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৫ টাকা ৮২ পয়সায়। একই সময়ে গড় আয় ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪৪ টাকা ৭১ পয়সায় পৌঁছেছে।
অর্থাৎ, গত প্রায় পাঁচ বছরে ব্যয় বৃদ্ধির তুলনায় আয় বৃদ্ধির হার কম থাকায় মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সাধারণ মানুষ বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সঞ্চয় ভেঙে এবং ধার করে মাসের খরচ চালাতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে গত কয়েক বছরে মূল্যস্ফীতি একবারও ৮ শতাংশের নিচে নামেনি বলে জানা যায়।
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে পণ্যের দাম কমানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুদ্রানীতি, রাজস্বনীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনার সমন্বয় ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
এদিকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, আসন্ন বাজেটে শুধু মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই নয়, আয় বৃদ্ধির সুযোগও নিশ্চিত করা হবে।