বাংলার আকাশ ডেস্ক :
চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার মৃত্যুর পর বিরল মশাবাহিত রোগ জাপানিজ এনসেফালাইটিস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মৃত ওই শিক্ষিকা চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি। চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি কিউলেক্স মশাবাহিত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।
চিকিৎসা সূত্রে জানা যায়, জাপানিজ এনসেফালাইটিস একটি বিরল ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত বুনো শুকর ও জলচর পাখি থেকে মশার মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। আক্রান্ত মশার কামড়ে ভাইরাসটি মানবদেহে প্রবেশ করে মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটাতে পারে, যা গুরুতর ক্ষেত্রে কোমার কারণ হতে পারে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মাহাবুবুল আলম খন্দকার বলেন, জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা বা খিঁচুনি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের এক গবেষণায় জানানো হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৭৫ জন এনসেফালাইটিস রোগীর মধ্যে ১৮ জনের দেহে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তবে গত কয়েক বছরে মাত্র কয়েকজনের ক্ষেত্রে জাপানিজ এনসেফালাইটিস সন্দেহ করা হয়েছে।
নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আসিফুল হক জানান, এটি অত্যন্ত বিরল একটি রোগ এবং সাধারণ এনসেফালাইটিসের তুলনায় এর সংক্রমণ হার খুবই কম।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে গবেষণা চলছে এবং যেহেতু এটি মশাবাহিত রোগ, তাই এ বিষয়ে আরও সতর্কতা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সতর্ক করে বলেছেন, জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি, মাথাব্যথা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।