1. admin@banglarakash.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
টাকোমায় পারিবারিক দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাত: ৪ জন নিহত, পুলিশের গুলিতে হামলাকারীর মৃত্যু ফরিদপুরে ইজিবাইক চুরি চক্রের বড়ো ধাক্কা, একাধিক গ্রেপ্তার ও উদ্ধার ১৮ বাইক সুপার এইটে পাকিস্তানের ভাগ্য নির্ভর এখন একাধিক সমীকরণে দাম কমেছে লেবু-শসার, বেগুন এখনো চড়া! স্বল্প আয়ের পরিবারকে সহায়তায় আসছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি, আবেদন করবেন যেভাবে…. বাজার অভিযানে বাধা ও হুমকির প্রতিবাদে ফরিদপুরে মানববন্ধন নগরকান্দায় যাত্রীবাহী বাস খাদে উল্টে আহত অন্তত ১৫–১৬ জন ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২ 🚨 সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ফরিদপুরের কৈজুরী ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান ডিবি পুলিশের হাতে আটক ফরিদপুরে আলফা ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স পিএলসি এর ট্রেনিং এবং সেলিব্রেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত।

দাম কমেছে লেবু-শসার, বেগুন এখনো চড়া!

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭২ Time View

বাংলর আকাশ ডেস্ক :

রোজার শুরুতে নিত্যপণ্যের বাজারে তোলপাড় চালানো লেবুর দাম অনেকটা কমে এসেছে। শতক ছাড়িয়ে যাওয়া কেজি মূল্যের শসাও ফিরছে রোজার আগের দামে। তবে, বাজারে এখনো চড়া দামে বেগুন বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বেগুন।

​মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায় যা রোজার শুরুতে ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল। রোজার শুরুতে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া প্রতি কেজি শসা এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

​বাজারে কমেছে আরও বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম। কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রোজার শুরুতে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। প্রথম রমজানে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের দামও প্রতিকেজি ৪০-৫০ টাকায় নেমেছে।

​বাজারের বিভিন্ন ধরনের সবজি দামও রোজা শুরুর দিনের তুলনায় কমে বিক্রি হতে দেখা গেছে। সবচয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে আলু, প্রতিকেজি মাত্র ২০ টাকা। ভ্যান গাড়িতে আলু ৫ কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হতেও কোথাও কোথাও। প্রতিকেজি করলা ১০০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, লাউ ৮০ টাকা এবং ধন্দুল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, গাজর ৩০-৪০ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা, শিম ৬০-৮০ টাকা এবং ঝিঙা ৪০-৫০ টাকায় মিলছে।

​ফুলকপি প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫০-৬০ টাকা এবং ধনেপাতা ও পুদিনাপাতা ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, লালশাকের আঁটি ১০ টাকা, পুঁইশাক ২০-৩০ টাকা এবং ডাঁটাশাক, কলমি শাক ও পালংশাক প্রতি আঁটি ১০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর লাউশাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে।

 

​বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে

​দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা। এ দু’টি বিষয়ই সর্বস্তরে জনসম্পৃক্ত ও জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট। এদিকে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ায় পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সর্বাগ্রে চলে এসেছে। বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় দেশের মানুষ বাজার সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি ছিল। এমনকি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরাও জিম্মি দশা কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। কার্যত সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী অলিগার্করাই দেশি-বিদেশি বাজার সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত ছিল। জুলাই অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার ও তার মূল দোসররা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তাদের রেখে যাওয়া প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ কারণেই অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরেও পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যাপক ম্যান্ডেট পাওয়া একটি নির্বাচিত সরকার সবদিক থেকেই বেশি শক্তিশালী ও সক্ষম হওয়ার কথা। সে কারণেই পণ্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলোর প্রতি দেশের মানুষের আগ্রহ ও প্রত্যাশা এখন সবচেয়ে বেশি।

​গত ১৯ তারিখ ছিল প্রথম রোজা। তার দুই দিন আগে নতুন সরকার শপথ ও দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। কিন্তু বাজারে গতানুগতিক হাল-হকিকতের তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। রোজার সময় সাধারণ মানুষের ভোগ্যপণ্য ডাল, তেল, লেবু, শসা, মাছ-মুরগি, গোশত, তরিতরকারিসহ নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। এমনিতেই গত দেড় যুগের স্বৈরাশাসন ও অর্থনৈতিক লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের অর্থনীতি নাজুক অবস্থায় পড়েছে। প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি না হলেও অব্যাহত মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশের সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। এহেন বাস্তবতায় নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে যে নতুন আশাবাদ জেগে উঠেছিল, রমজানে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা জনগণের প্রত্যাশা ও আশাবাদের জায়গায় বড় ধরনের হোঁচট খাবে।

​রোজার শুরুতে প্রতি হালি লেবুর দাম ১৬০ টাকা, শসা-বেগুনের মতো স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। রোজাদারদের ইফতারিতে এসব পণ্যের বেশি চাহিদা থাকায় মুনাফাখোর সিন্ডিকেট পবিত্র রমজান মাসে এসব পণ্যে ভোক্তাদের জিম্মি করে পকেট কাটে। দেশের মানুষ আর এই গতানুগতিক চিত্র দেখতে চায় না। বাজার সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত মুনাফাবাজির বিরুদ্ধে সরকারের কার্যকর অ্যাকশন দেখতে চায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতির উদ্দেশে দেয়া তাঁর প্রথম ভাষণে বলেছেন, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা। তিনি মহানবীর (স.) ন্যায়পরায়ণতা অনুসরণের কথা নির্বাচনের আগে এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম ভাষণেও বলেছেন। রমজান মাসে বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে সরকার প্রধানের কথা ও কাজের মিল বা প্রতিফলন দেখতে চায় দেশের মানুষ। পতিত স্বৈরাচারের আমলে দেশের মানুষ শুধু সরকারের কথামালার রাজনীতি দেখেছে। এখন নির্বাচিত সরকারকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও সক্ষমতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

​গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়ছে না। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে অভিযান চালিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারের নীতিগত অবস্থান জনগণের কাছে স্পষ্ট করার মাধ্যমেই কেবল এর পরিবর্তন প্রত্যাশা করা যায়। সবেমাত্র সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তাদের সময় দিতে হবে, এটা যেমন ঠিক, তেমনি রমজানের পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজার সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির মতো সামাজিক সমস্যাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতেই সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ণ করতে পারে। বহুল প্রত্যাশিত-প্রতীক্ষিত নির্বাচিত সরকারের জনগণের জরুরি চাহিদা ও প্রত্যাশাগুলোর দিকে নজর দেবে, এটাই প্রত্যাশিত। এক্ষেত্রে শৈথিল্যের সুযোগ নেই। এই রমজান মাস সরকারের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য-ব্যর্থতার এক বড় পরীক্ষা। এমনিতেই ঢাকাসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংকটে ভুগছে মানুষ। রাতারাতি হয়তো সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। বাজার সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো জরুরি ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করতে হবে। রমজানে গ্যাস-বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের বাড়তি নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। জনবিচ্ছিন্ন ও অলিগার্ক নিয়ন্ত্রিত সরকারের সাথে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মধ্যে গুণগত পার্থক্য সরকারের কাজের দ্বারা প্রতিফলিত হবে। রাজনৈতিক সরকারের সমর্থক-নেতাকর্মী, বিরোধী দলের সমর্থন ও সমন্বিত উদ্যোগে যেকোনো সমস্যা দূর করা সম্ভব। সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর অংশগ্রহণ ও ভূমিকায় অনেক কিছু সহজ হতে পারে। আইনের শাসন বাস্তবায়নে শুরুতেই মানুষ সরকারের নীতিগত অবস্থানের প্রতিফলন দেখতে চায়। রমজান মাসে জনজীবনে শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LatestNews
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT