যুক্তরাষ্ট্রের টাকোমা শহরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কি পেনিনসুলা এলাকায় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে একটি মর্মান্তিক ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলায় তিনজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত আরেকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তার জীবন রক্ষা করা যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও মাদকাসক্ত এক যুবক এই হামলা চালায়।
পুলিশ জানায়, সকালে একটি সুরক্ষা আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যায়। ওই যুবকের মা আদালতের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ‘নো-কন্ট্যাক্ট’ আদেশ নিয়েছিলেন। পুলিশ যখন আদেশটি পৌঁছে দিতে যায়, তখন সন্দেহভাজন ব্যক্তি আচমকা উত্তেজিত হয়ে বাড়ির সামনে উপস্থিত লোকজনের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশ তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয় এবং কিছু সময় পর গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই হামলাকারীর মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, যে বাড়ির সামনে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে সেটি হামলাকারীর মায়ের। দীর্ঘদিন ধরে ছেলের হুমকি ও সহিংস আচরণের কারণে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। আদালতের নথিতে উল্লেখ ছিল, ছেলে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে, সম্পত্তির ক্ষতি করেছে এবং এমনকি পোষা প্রাণীকেও আঘাত করেছে। তবে সুরক্ষা আদেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই ঘটে যায় এই ট্র্যাজেডি।
এখনও নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ জানতে প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনা আবারও পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক স্বাস্থ্য সংকট ও মাদকাসক্তির ভয়াবহ দিকটি সামনে নিয়ে এসেছে, যা স্থানীয় কমিউনিটিকে নাড়া দিয়েছে।