বাংলার আকাশ ডেস্ক :
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভোজ্যতেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দামও কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
মুগদা, মানিকনগর, মালিবাগ ও মগবাজারসহ কয়েকটি এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক মুদি দোকানে ১ ও ২ লিটারের বোতলজাত তেল চাহিদার তুলনায় কম পাওয়া যাচ্ছে। পরিচিত কিছু ব্র্যান্ড সীমিত পরিমাণে থাকলেও অনেক ব্র্যান্ডের তেল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।
মানিকনগর এলাকার এক ক্রেতা সবুজ বলেন, এক লিটার বোতলজাত তেল কিনতে কয়েকটি দোকান ঘুরেও পাননি। পরে তিনি বাধ্য হয়ে খোলা তেল কিনেছেন, যার দাম কেজিপ্রতি ২০৫ টাকা নেওয়া হয়েছে।
বিক্রেতারা জানান, ৫ লিটারের একটি সয়াবিন তেলের বোতলের গায়ে নির্ধারিত মূল্য (এমআরপি) ৯৫৫ টাকা। আগে ডিলারদের কাছ থেকে এটি প্রায় ৯৩০ টাকায় কিনে ৯৪০ টাকায় বিক্রি করতেন তারা। তবে গত কয়েক দিনে ডিলার পর্যায়ে দাম বেড়ে প্রায় ৯৫০ টাকায় পৌঁছেছে। এতে খুচরা বিক্রেতাদের লাভ কমে গেছে এবং ক্রেতাদেরও আগের তুলনায় কিছুটা বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে।
এদিকে খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। বর্তমানে অনেক এলাকায় খোলা তেল ২০০ থেকে ২০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ১৯৫ থেকে ১৯৮ টাকা।
বিক্রেতাদের দাবি, গত এক মাস ধরেই বোতলজাত তেলের সরবরাহ তুলনামূলক কম ছিল। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সংকট আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে রাখছেন বলেও তারা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। Meghna Group of Industries–এর ফ্রেশ ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রমজান সামনে রেখে অতিরিক্ত তেল আমদানি করা হয়েছে এবং মাসে ৫০ হাজার টনের বেশি তেল বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে City Group–এর এক কর্মকর্তা বলেন, তাদের পক্ষ থেকে সরবরাহ কমানো হয়নি। তবে এলসি–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কিছু ছোট কোম্পানি তেল আমদানি করতে পারছে না। পাশাপাশি রমজানে বাড়তি চাহিদা ও কিছু মানুষের মজুদের কারণেও বাজারে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।