ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় রহস্যজনক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির কৌশলগত দ্বীপ কেশমসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এসব বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এর মধ্যেই মার্কিন নৌ অবরোধ ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেওয়ার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, কেশমের পাশাপাশি জাস্ক, সিরিক ও বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও সেগুলোকে সরাসরি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বলে নিশ্চিত করেনি তেহরান। আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম একটি সূত্রের বরাท দিয়ে জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে শোনা যাওয়া বিস্ফোরণের সঙ্গে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কোনো সংযোগ নেই। এর আগে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালেও মার্কিন সামরিক বাহিনী এই দ্বীপে ছোট পরিসরে হামলা চালিয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
এদিকে, গত রোববার ভোরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখা জানায়, হরমুজ প্রণালির ‘অননুমোদিত পথে’ চলাচলের সময় মাইনের বিস্ফোরণে দুটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। তবে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় শোনা বিস্ফোরণের সঙ্গে এই জাহাজ দুর্ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে ইরানের বন্দর থেকে ছেড়ে আসা একটি বাণিজ্যিক জাহাজ মার্কিন নৌ অবরোধ লঙ্ঘন করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাতে যুদ্ধবিমান থেকে আক্রমণ চালানো হয়। জাহাজের পেছনের অংশে গুলি চালিয়ে সেটিকে সম্পূর্ণরূপে চলাচলের অযোগ্য বা অচল করে দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মোড় নিতে পারে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার আগে বেশ কিছুদিন ওয়াশিংটন কিছুটা সংযত থাকলেও ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় সামরিক তৎপরতা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ। তবে ইরান এর আগে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের ওপর নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে কঠোর পাল্টা আঘাত হানা হবে।