দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. রিপন মিয়াকে (৩৩) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) গভীর রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন এলাকার অচিন্তপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পেশায় কাঠমিস্ত্রি এবং ফেসবুকে ১৯ লাখেরও বেশি অনুসারী থাকা রিপন মিয়া টিকটক বা ভিডিও বানিয়ে ভাইরাল করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী ওই কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গত ৩০ জুলাই (মতান্তরে ১ আগস্ট) রাতে কিশোরী বাড়িতে একাকী থাকার সুযোগে তাকে বাড়ির পাশের জঙ্গলে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনার পর বিষয়টি লোকলজ্জার ভয়ে চেপে গেলেও এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে এক গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশে উপস্থিত লোকজনের সামনে রিপন নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও এলাকাছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই সালিশের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে ধর্ষণের মতো মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নিষ্পত্তির চেষ্টায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে গত ৫ আগস্ট নেত্রকোনা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পলাতক রিপন মিয়াকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাবের গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং অবশেষে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে র্যাবের পক্ষ থেকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তবে অভিযুক্তের স্ত্রী চম্পা আক্তার দাবি করেছেন, তার স্বামী নির্দোষ এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।